
এলগর মরটিস (Algor Mortis): মৃত্যুর পর যে মুহূর্তে আমাদের হৃদযন্ত্রের স্পন্দন বন্ধ হয়ে যায় সেই মুহূর্ত থেকে আমাদের শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে শুরু করে। যতক্ষণ পর্যন্ত শরীরের তাপমাত্রা কক্ষ তাপমাত্রায় না পৌঁছায় ততক্ষণ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া চলে।
রিগর মরটিস (Rigor Mortis): যখন হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায় অর্থাৎ সেটি আর রক্ত সারা শরীরে পাম্প করতে পারে না তখন ধমনী, শিরা, উপশিরা ও কৈশিক নালীতে তরল রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। এই জমাটবদ্ধ রক্তের কারণে মানুষের শরীর শক্ত হয়ে যায়। রিগর মর্টিস সম্পূর্ণ হতে সময় লাগে প্রায় দুই থেকে ছয় ঘন্টা।
পচন (Decomposition): সাধারণত মানুষের মৃত্যুর পর প্রায় কয়েকদিন পর্যন্ত শরীরের কিছু কোষ, বিশেষ করে ত্বকীয় কোষ (Skin cells) জীবিত থাকে। এতে করে জীবন্ত ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণে এসব কোষ ভেঙ্গে যেতে এবং পচতে শুরু করে।
বিবর্ণ (Dicoloration): মৃত্যুর পর শরীরের বর্ণ প্রথমে সবুজ হয়ে যায়, তারপর হয় বেগুনী এবং সর্বশেষ এটি কালো বর্ণ ধারণ করে।
গন্ধ (Smell): জীবন্ত কোষের উপর ব্যাকটেরিয়া আক্রমণ করায় এটির বিগলন ঘটে এবং সেটি বিকট দূর্গন্ধযুক্ত সালফিউরাস গ্যাস উৎপন্ন করে। অনেকটা পচা ডিমের গন্ধের মত এই গন্ধ।
ব্লটিং (Bloating): মৃতদেহের ভেতরেও সালফিউরাস গ্যাস উৎপন্ন হয় ফলে মৃতদেহ স্ফীত হতে শুরু করে। এই স্ফীতকরণের এক পর্যায়ে চোখ তাদের কোটর ছেড়ে বেরিয়ে আসে, জিহবা বেরিয়ে আসে মুখের ভেতর থেকে।
ফোসকা (Blistering): মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মৃতদেহের চামড়ায় অত্যধিক ফোসকা পড়ে। এই ফোসকার পরিমাণ এমন হয় যে সামান্য স্পর্শেই তা ঝরে পড়ে যেতে পারে।
এবং সবশেষে মৃত্যুর কয়েক মাসের মধ্যে মৃতদেহের শরীর থেকে চুল, পশম ও নখ খসে পড়ে যায়। শরীরের অঙ্গানুসমূহ তরলিত হয়ে যায় এবং একসময় কংকাল ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।
তথ্যসূত্র: METRO

0 comments:
Post a Comment