Pages

শুক্র গ্রহ কেনো উল্টোদিকে ঘোরে? - মিনি সায়েন্স

August 20, 2020

‘তুমি এই কাজটি করতে পারলে সূর্য পশ্চিমে উঠবে’ এই ধরণের উপমার সাথে সকলেরই পরিচিত আছে। অসম্ভব বোঝাতে এই ‘সূর্য পশ্চিমে উঠবে’ ব্যাপারটি আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি। সূর্য কিন্তু পশ্চিমেও উঠতে পারে। নাহ, পৃথিবীর ক্ষেত্রে সূর্য পশ্চিমে না উঠলেও আমাদের প্রতিবেশী গ্রহ শুক্রের ক্ষেত্রে সেটিই সত্য। অবাক হচ্ছেন?

আমরা জানি সৌরজগতের গ্রহগুলো সূর্যকে কেন্দ্র করে নিজ অক্ষের উপর আবর্তন করে। অর্থাৎ, সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে, সাথে সাথে নিজেও ঘুরে। সকল গ্রহের ক্ষেত্রে এই দুই ঘূর্ণন একই দিকে হওয়ার কথা। যেমন সৌরজগতের গ্রহগুলো পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘোরে। তাই সূর্য পূর্বদিকে ওঠে আর পশ্চিমে অস্ত যায়। উত্তর মেরু থেকে দেখলে এই ঘূর্ণন ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে। এমনকি সূর্য নিজেও নিজ অক্ষের উপর পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘোরে।

মহাবিশ্বে অধিকাংশ সূর্য এবং সৌরজগতের ক্ষেত্রে এই কথা সত্য হলেও কখনো কখনো এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। আমাদের সৌরজগতে শুক্র গ্রহটিও এরকম পালছাড়া হয়ে গেছে। অন্যান্য গ্রহের মত শুক্র সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে ঠিকই কিন্তু নিজ অক্ষের উপর এটি ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘোরে। অর্থাৎ, পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে। আর তাই সেখানে সূর্য ওঠে পশ্চিম দিকে আর অস্ত যায় পূর্বদিকে।

কেবল শুক্রগ্রহের কথা বললেই ভুল হবে, ইউরেনাস গ্রহটিও শুক্রের মত বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে। তবে ইউরেনাসের ক্ষেত্রে এই বৈশিষ্ট্য খানিকটা অন্যরকম। নিচের ছবিটি দেখলেই বোঝা যাবে যে, অন্যান্য গ্রহের ঘূর্ণনের সাথে ইউরেনাসের ঘূর্ণনের পার্থক্য কী। এটি সাধারণ অক্ষ থেকে প্রায় ৯৮ ডিগ্রি পর্যন্ত ঘূর্ণন প্রদর্শন করে। শুক্রই প্রকৃতপক্ষে সম্পূর্ণ বিপরীত ঘূর্ণন বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করে।

কিন্তু একই সূর্যের সন্তান হয়েও, শুক্র এবং ইউরেনাস কেনো উল্টো পথ ধরলো? এর সঠিক কোনো উত্তর দেয়া সম্ভব নয়। বিজ্ঞান কেবল এই বিষয়ে হাইপোথিসিস, ম্যাথম্যাটিক্যাল মডেল ইত্যাদি দিতে পারে, কিন্তু সঠিক উত্তর দেয়া সম্ভব নয়।

একটি হাইপোথিসিসে বলা হয়েছে যে, শুক্র এবং ইউরেনাস পূর্বে অন্যান্য গ্রহের মতই পশ্চিম থেকে পূর্বদিকে ঘুরতো। কিন্তু কোনো এক সময় ‘কোনো কিছু’-র সাথে সংঘর্ষের ফলে এদের ঘুর্ণন পথ বদলে গেছে। এই ‘কোনো কিছু’ হতে পারে অনেক কিছুই, যেমন গ্রহাণুপূঞ্জ, উল্কাপিণ্ড বা এরকম কিছু।

আরেকটি হাইপোথিসিস অনুযায়ী, শুক্র জন্মের পরে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘুরলেও এটি আস্তে সাতে ধীর হতে থাকে। একসময় একেবারে স্থির হয়ে যায় এবং এরপর উল্টোদিকে ঘোরা শুরু করে। ভবিষ্যতে আবার হয়তো কখনো আবার এটি সঠিক দিকে ঘুরতে শুরু করবে।

এই হাইপোথিসিসের কারণ হিসেবে বলা যায় শুক্রের প্রতি সূর্যের শক্তিশালী আকর্ষণ বল। শুক্রের অধিক ঘন পরিবেশ, সূর্যের আকর্ষণের কারণে যে ‘Tidal pull’ বা শক্তিশালী টান, শুক্রের নিজস্ব ঘূর্ণন, এসব মিলেমিশে-কেটেকুটে শুক্রের উল্টো ঘূর্ণনের সৃষ্টি করেছে।

এখানে আরো একটি মজার জিনিস আছে। শুক্রের এই ধীর গতির কারণে শুক্র নিজে একবার ঘুরতে সময় নেয় পৃথিবীর ২৪৩ দিন। কিন্তু সূর্যকে একবার ঘুরতে সময় নেয় পৃথিবীর ২২৫ দিন। অর্থাৎ, আপনি যদি শুক্রগ্রহে বসবাস করেন, তাহলে আপনার একদিন পার করতে একবছরের বেশি সময় পার করতে হবে।

অবশ্য এই ব্যাপারটা সূর্যের সবথেকে নিকটবর্তী গ্রহ বুধের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বুধ গ্রহের তিনদিন, এর দুইবছরের সমান। তবে বুধের ক্ষেত্রে অন্তত দিনের থেকে বছর কম হয়ে যায় নি বা এটি শুক্রের মত উল্টোদিকেই ঘোরে না।

 

১) www.sciencealert.com/why-are-venus-and-uranus-spinning-in-the-wrong-direction

২) www.scientificamerican.com/article/why-venus-spins-the-wrong/

৩) ucolick.org/~mountain/AAA/aaawiki/doku.php?id=why_do_some_planets_have_reverse_rotation

0 comments:

Post a Comment